১. হার্ট অ্যাটাক (মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন)
হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে হঠাৎ করে হার্টে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া। এটি সাধারণত করোনারি ধমনীতে ব্লকেজের কারণে ঘটে। লক্ষণগুলো হলো: বুকে প্রচণ্ড ব্যথা, ঘাম হওয়া, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা ইত্যাদি। দ্রুত চিকিৎসা না পেলে এটি মৃত্যু ঘটাতে পারে।
২. কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট (হৃদযন্ত্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া)
এটি হার্ট অ্যাটাকের চেয়েও মারাত্মক। এতে হার্ট হঠাৎ কাজ করা বন্ধ করে দেয় এবং রক্তচলাচল থেমে যায়। ৫–১০ মিনিটের মধ্যে সিপিআর বা ডিফিব্রিলেটর ব্যবহার না করলে রোগী মারা যেতে পারে।
৩. স্ট্রোক (মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ বা রক্তক্ষরণ)
স্ট্রোক দুইভাবে হতে পারে—ইস্কেমিক (রক্ত চলাচল বন্ধ) ও হেমোরেজিক (রক্তক্ষরণ)। হঠাৎ কথা জড়িয়ে যাওয়া, মুখ বেঁকে যাওয়া, চলাফেরায় অসুবিধা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।
৪. পালমোনারি এম্বোলিজম (ফুসফুসে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়া)
শরীরের অন্য কোথাও (প্রায়শই পায়ে) রক্ত জমাট বেঁধে তা ফুসফুসে পৌঁছে গেলে তা পালমোনারি এম্বোলিজম সৃষ্টি করতে পারে। এটি হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা ও অচেতনতার কারণ হতে পারে।
৫. অ্যারিথমিয়া (হার্টবিটের অস্বাভাবিকতা)
হৃদপিণ্ডের ছন্দে যদি মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে, যেমন ভেন্ট্রিকুলার ফিব্রিলেশন, তাহলে তা হঠাৎ মৃত্যু ডেকে আনতে পারে। অনেকে আগে থেকে জানতেও পারে না যে তাদের হৃদপিণ্ডে এমন ঝুঁকি রয়েছে।
৬. অ্যানিউরিজম রাপচার (রক্তনালির ফেটে যাওয়া)
ব্রেইন বা অ্যাবডোমেনে কোনো রক্তনালী ফুলে গিয়ে হঠাৎ ফেটে গেলে তীব্র অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়। এটি তীব্র মাথাব্যথা, বমি এবং দ্রুত অচেতনতার কারণ হতে পারে।
৭. অ্যাজমা বা অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন (অ্যানাফাইল্যাক্সিস)
গুরুতর অ্যালার্জি (খাবার, ওষুধ বা কীটের কামড় থেকে) শরীরে তীব্র প্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে, যার ফলে শ্বাসনালী সঙ্কুচিত হয়ে যায় এবং শ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
৮. শক (Shock)
যেকোনো বড় দুর্ঘটনা, রক্তপাত, ইনফেকশন বা হৃদযন্ত্র ব্যর্থতার ফলে শরীরে রক্তচাপ হঠাৎ কমে যেতে পারে। একে শক বলা হয়। এতে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো অক্সিজেন পায় না এবং মৃত্যু হতে পারে।
৯. ইলেকট্রোকিউশন বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া
বিদ্যুতের শকে হৃদপিণ্ডের ছন্দ বিঘ্নিত হতে পারে, ফলে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতে পারে। উচ্চ ভোল্টেজের শক তাৎক্ষণিক মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
১০. ট্রমা বা দুর্ঘটনা
মাথায় আঘাত, অভ্যন্তরীণ রক্তপাত, বা মেরুদণ্ডের মারাত্মক ক্ষতি হঠাৎ মৃত্যুর কারণ হতে পারে। গাড়ি দুর্ঘটনা, উচ্চতা থেকে পড়া বা অস্ত্রাঘাত এর উদাহরণ।
0 Comments