
রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকা নিউমার্কেট-নিলক্ষেত অঞ্চলে আজ আবারও দুই কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা কলেজ এবং সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুপুর ১টার দিকে শুরু হওয়া এই সহিংসতা বিকেল পর্যন্ত থেমে থেমে চলতে থাকে। এসময় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে এবং সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুই কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। কিছুদিন আগেও একাধিকবার তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বাকবিতণ্ডা, এমনকি হালকা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। তবে আজকের সংঘর্ষটি ছিল তুলনামূলকভাবে বড় পরিসরের এবং এতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, রড ও লাঠি নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মতো সহিংসতা দেখা যায়।
একজন দোকান কর্মচারী বলেন, “আমরা দোকান বন্ধ করে দৌড়ে পালিয়েছি। চারদিক থেকে ইট ছোঁড়া হচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসা তো দূরের কথা, জীবন নিয়ে টানাটানি পড়ে যায়।”
এলাকাবাসী জানায়, দুপুরের দিকে দুই কলেজের ছাত্ররা নীলক্ষেত মোড়ের কাছে মুখোমুখি হয়ে পড়ে। প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে তারা রাস্তায় ইট ও বোতল ছুঁড়তে শুরু করে। উভয় পক্ষই রাস্তায় অবস্থান নেয়, যার ফলে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। পলাশী, আজিমপুর, নিউমার্কেটসহ আশপাশের এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

এসময় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। নিউমার্কেট থানার ওসি বলেন, “আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করেছি। এখনো পরিস্থিতি টেনশনপূর্ণ, তবে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, “কোনো শিক্ষার্থীকে এখন পর্যন্ত আটক করা হয়নি, তবে যারা ঘটনার পেছনে ছিল, তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।”
ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, সামাজিক মাধ্যমে কিছু কটূক্তিমূলক মন্তব্য ঘিরেই মূলত এই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আবার কেউ দাবি করেছেন, ফুটপাতে এক দোকানে বসা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়, যা পরে বড় আকার নেয়।

ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজ কর্তৃপক্ষ উভয়ই শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ঢাকা কলেজের একজন শিক্ষক বলেন, “আমরা সবাইকে শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছি। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, আমরা তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি।”
শিক্ষার্থীদের এমন আচরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকসহ সাধারণ মানুষ। একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ কী হবে যদি তারা সব সময় এমন হানাহানিতে জড়িয়ে পড়ে? কলেজে এসে কেউ যদি শিক্ষার্থী হিসেবে না থেকে রণক্ষেত্র তৈরি করে, তাহলে জাতির কী উপকার হবে?”
এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং কিছু সময়ের জন্য সিটি কলেজ ও ঢাকা কলেজের ক্লাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের সংঘর্ষ শুধু শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং পুরো সমাজে নেতিবাচক বার্তা দেয়। তাঁরা প্রশাসন ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
0 Comments