Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

জাতিসংঘ: দুই দেশের অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে রাখাইনে সহায়তা পাঠানোর সুযোগ নেই

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে রাখাইনে মানবিক সহায়তা পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য মিয়ানমার ও বাংলাদেশের সম্মতি এবং সহযোগিতা প্রয়োজন। বাংলাদেশ সরকার সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রোহিঙ্গাবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের বৈঠকে জানানো হয়েছে, নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ঘটলে সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর অতীতে সীমান্ত খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, তবে বাংলাদেশ সরকার সীমান্ত নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সার্বিকভাবে, রাখাইনে সহায়তা পাঠাতে হলে দুই দেশের সম্মতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য। বাংলাদেশ সরকার সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি মানবিক সহায়তার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মানবিক সহায়তা পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ সীমান্ত ব্যবহার করার প্রস্তাব নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার নীতিগতভাবে এই প্রস্তাবে সম্মতি জানালেও, বাস্তবায়নের জন্য কিছু শর্ত আরোপ করেছে।
বাংলাদেশের অবস্থান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানান, রাখাইনে মানবিক সহায়তা পাঠানোর জন্য জাতিসংঘের প্রস্তাবিত করিডোরে বাংলাদেশ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। তবে, এই করিডোর বাস্তবায়নের জন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে। নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতকরণ: রাখাইনে সহায়তা পাঠানোর জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন, যাতে সহায়তা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত না হয়। যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতা: রাখাইনে চলমান সংঘর্ষের কারণে সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। তাই, সহায়তা পাঠানোর আগে একটি যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতা প্রয়োজন। বিতর্ক ও উদ্বেগ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এই প্রস্তাব নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কিছু রাজনৈতিক দল মনে করে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারে না এবং এটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। উপসংহার রাখাইনে মানবিক সহায়তা পাঠানোর জন্য জাতিসংঘের প্রস্তাবিত করিডোর নিয়ে বাংলাদেশ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে, তবে বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় উভয় দেশের সম্মতি ও সহযোগিতা অপরিহার্য।

Post a Comment

0 Comments